চিংড়ির রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উপর কর্মশালা

গত ২৮শে জুন ২০১৮ রোজ রবিবার সি.এস.এস আভা সেন্টারে ইউরোস্টিপ প্রকল্প সহায়তায় চিংড়ির রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উপর দিন ব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন বেলজিয়ামের ইউঘ্যান্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত প্রফেসর প্যাট্রিক সরগিলজ। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষী, মৎস্য ঔষধ কো¤পানী প্রতিনিধি, মৎস্য গবেষক, সরকারী ও বেসরকারী আধিকারীকগন। প্যাট্রিক সরগিলজ তার দীর্ঘ স্লাইড নির্ভর আলোচনায় দেখান যে, চিংড়ি জাতীয় প্রাণী কিছু ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা ব্যাপকভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ফলে খামরী বিপুলভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভিব্রিওসিস রোগ যার মধ্যে অন্যতম। ভিব্রিও প্যারাহিমোলাইটিকাস নামক ব্যাকটরিয়া এই রোগের জন্য দায়ী। এই ব্যাকটরিয়া চিংড়ির লার্ভাল খাদ্য যেমন আর্টিমিয়াকেও আক্রান্ত করতে পারে। ফলে চিংড়ি পোস্ট লার্ভি (পি.এল) অবস্থায় আক্রান্ত আর্টিমিয়াকে খাদ্য হিসেবে গ্রহন করলে ঐ চিংড়ি সহজেই উক্ত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। ভিব্রিওর প্রায় ১৪টি প্রজাতি চিংড়িকে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। চিংড়ির পরিবেশের ভাল ও মন্দ ব্যাকটেরিয়া যার নিজেদের মধ্যে সংকেত আদান প্রদান করতে সক্ষম সে সম্পর্কেও ধারনা দেন । ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া চিংড়ির পরিবেশে থাকবে কিন্তু তা যেন প্রকটাকার হয়ে চিংড়িকে রোগাক্রান্ত না করে সেজন্য তিনি গুড অ্যাকুয়াকালচার প্রাকটিসের নীতি অনুসরন করতে বলেন। আলোচনার শেষাংশে তিনি বাংলাদেশের ঋতু ভিত্তিক (সিজোনাল পন্ড) পুকুর/ঘেরে লবণ চাষের বিশাল সম্ভবনার কথা ব্যক্ত করেন এবং সেখানে যে সহজেই বাণিজ্যিক আর্টিমিয়া চাষ করা যেতে পারে এবং তা যে বাহারি অ্যাকুরিয়াম মাছের অত্যন্ত পুস্টিকর খাদ্য সে সম্পর্কে জানান। তা ছাড়া আটিমিয়া চপ হিসেবে মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।

All News